1/10/2018

আগ্নেয়াস্ত্র কেনার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং শর্তাবলী



আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ঢাকা শহরের বেশ কিছু স্থানে আগ্নেয়াস্ত্রের দোকান দেখা যায়। যেখানে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করা হয় শর্তসাপেক্ষে। তবে আপনি ইচ্ছে করলেই সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করতে পারবেন না। আবার যদি কেউ ক্রয় করতে পারে তবে সেটি সরাসরি বহন করার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করে থেকে বহন করা পর্যন্ত উভয় ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম নীতি রয়েছে মোটকথা এর জন্য আপনাকে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।
যাদেরকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়

আবার আপনি চাইলে আপনাকে লাইসেন্স দিয়ে দিবে এমনটাও নয়। লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম এবং কিছু শর্ত পালন করতে হয়।


  1. বাংলাদেশে চলমান 1878 সালের arms act 1924 সালের arms rules এর আওতায় সামরিক অথবা বেসামরিক অথবা নিম্নবর্ণিত শর্তপূরণ সাপেক্ষে নিষিদ্ধ বরের আগ্নেয়াস্ত্র সমূহের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
  2. যেকোনো ব্যক্তির লং( বন্দুক বা শটগান বা ০.২২ বোর রাইফেল) বেরেল এবং short barrel (npv রিভলবার/ পিস্তল) সর্বোচ্চ 20 লাইসেন্স আবেদন করতে পারেন।
  3. বয়সের ক্ষেত্রে যে নিয়ম মানতে হবে সেটি হচ্ছে আবেদনকারীর বয়স শর্ট ব্যারেল আগ্নেয়শ্রী ক্ষেত্রে ন্যূনতম 30 বছর এবং লং ব্যারেলের ক্ষেত্রে 25 বছর হতে হবে।
  4. আবেদনকারীকে কর প্রদানকারী ব্যক্তি হতে হবে। শিল্পপতি অথবা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বছরে ন্যূনতম দুই লক্ষ টাকা আয়কর প্রদান করতে হবে।
  5. যে ব্যক্তি আবেদন করবেন উক্ত ব্যক্তির অনুকূলে পুলিশ প্রতিবেদন থাকতে হবে।
  6. ও নিষিদ্ধ বোর্ডের সকল প্রকার লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রদান করা হয়। পিস্তল এবং revolver লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ আবেদনকারী ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে থাকেন এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাই করে রিভলবার অথবা পিস্তলের লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশ প্রদান করে থাকে তার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পূর্বানুমতির জন্য প্রেরণ করবে। অন্যান্য long অশ্লীল ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ সাধারণত লাইসেন্স প্রদান করেন।
  7. সশস্র বাহিনীর মেজর এবং তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সমমর্যাদা সম্পন্ন কর্মকর্তা সেই সাথে সরকারের উপসচিব ও তদন্ত পর্যায়ের কর্মকর্তাগণকে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে।
  8. কেউ যদি বার্ধক্যজনিত অথবা মৃত্যুজনিত কারণে উত্তরাধিকারসূত্রে আগ্নেয়াস্ত্র হস্তান্তর প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে চায় সেক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর শরণাপন্ন হতে হবে। এক্ষেত্রে লাইসেন্সধারী মৃত ব্যক্তিদের certificate, ওয়ারিশান সনদ, লাইসেন্সধারী অথবা ওয়ারিশগণ কর্তৃক 150 টাকার স্ট্যাম্পে নাদাবী হলফনামা অনুকূল পুলিশ প্রতিবেদন এবং বয়স প্রমাণের জন্য বার্থ সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে।
  9. ক্রয়কিত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করার পর পাঁচ বছরের মধ্যে বিক্রয় করা যাবেনা। মেরামত অযোগ্য অথবা ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রের পরিবর্তে নতুন অস্ত্র সংগ্রহ বা ক্রয় করতে চাইলে সে ক্ষেত্রে অস্ত্র ধর পরিবর্তন করার জন্য আপনাকে পূর্ব অনুমতি নিতে হবে।
  10. যে ব্যক্তি লাইসেন্সকৃত অস্ত্র প্রয়োগ করবেন তাকে অস্ত্র ক্রয় করার পর ছয় দিনের মধ্যে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এবং সরাসরি উপস্থিত হয়ে ক্রয়কিত অস্ত্রের বিভিন্ন তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করতে সহায়তা করতে হবে।
  11. আবেদন করি যদি আর মেয়েটার আওতাদিন ব্যক্তি হন তাহলে নিজ স্থায়ী আবাসস্থল এর সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুপারিশ ক্রমে আবেদন করতে পারেন।
  12. আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রাপ্তির সকল আবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দাখিল করতে হয়।


No comments:

Post a Comment