12/30/2017

নিম্ন এবং উচ্চ আদালতে মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য। উচ্চ আদালতে মামলা করবেন কিভাবে?

নিম্ন এবং উচ্চ আদালতে মামলা


বর্তমান সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি সরকারি ওয়েবসাইট রয়েছে যেখান থেকে আপনি সকল ধরনের তথ্য পেতে পারেন। উক্ত ওয়েব সাইটটি হচ্ছে http://www.supremecourt.gov.bd/web/

আমাদের দেশে বিচারব্যবস্থায় সর্বোচ্চ আদালত হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। অনেক বেশি অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের পরেও প্রিভি কাউন্সিলে আপীল করার সুযোগ থাকে তবে আমাদের বাংলাদেশে এখন সেটা নেই।

সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে দু'টি বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগ এবং অপরটি হচ্ছে আপিল বিভাগ। পাশের দেশ ভারতে একাধিক হাইকোর্ট থাকলেও আমাদের বাংলাদেশ হাইকোর্ট মাত্র 1 টি। হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপীল বিভাগ দুটো আসলে একই স্থানে অবস্থিত। যাকে আমরা মুখে মুখে সকলেই হাইকোর্ট বলি চিনি।

আজকে আমরা বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব হাইকোর্ট এ কিভাবে মামলা করতে হয়। আলো সেই সাথে কিছু খুঁটিনাটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করব।

মামলা

উচ্চ আদালতে বিভিন্ন ধরনের মামলা হয়ে থাকে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় হচ্ছে যেমন নিম্ন আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা যায়। আবার মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য উচ্চ আদালতে আসতে পারে একই সাথে নিম্ন আদালতে চলমান বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে যদি আপনার আপত্তি থাকে সেক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের তা জানাতে পারেন।

কিছু কিছু সময় এমনও দেখা যায় যে হাইকোর্ট কোন নির্দিষ্ট মামলার ব্যাপারে আদালতকে নির্দেশনা দেয় আবার অনেক ক্ষেত্রে মামলাটিকে উচ্চ আদালতের নিয়ে আসে।

এখানে উল্লেখযোগ্য একটা বিষয় হচ্ছে যে কিছু কিছু মামলা আছে যেগুলো সরাসরি হাইকোর্টে করতে হয় যেমন company সংক্রান্ত মামলা,  খ্রিস্টান বিবাহ সংক্রান্ত মামলা এবং admiralty বা সমুদ্রগামী জাহাজ সংক্রান্ত মামলা।

এভাবে আমরা রিট সংক্রান্ত বিষয়ে জেনে নেব

সংবিধানের 102 ধারা অনুযায়ী যেকোনো নাগরিক রিট আবেদন করতে পারেন। written বিষয়টি যদিও মামলার মতো তবে এর মধ্যে মৌলিক একটি পার্থক্য আছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কোনো আইনের অধীনে প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উপর অন্যায় করা হচ্ছে সেই ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ এর ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে থাকে।
আগ্রান কোন ব্যক্তি যদি মনে করেন যে সরকার কর্তৃক প্রণীত আইন অন্যান্য আইন ধারা ভঙ্গ হচ্ছে এবং তা সংবিধান সেতু সে ক্ষেত্রে আইন চ্যালেঞ্জ করে রিট করা যায়।
অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে রয়েছে যেখানে দিন এবং মামলা দুটি করা চলে রিটে খরচ কিছুটা বেশি হলেও এর কার্যপ্রণালী খুব দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।

এডমিনিস্ট্রেটিভ আপিলেট ট্রাইবুনাল

সংবিধানের 117 ধারা অনুসারে administrative tribunal অথবা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। সাধারনত সরকারি অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদের চাকুরী সংক্রান্ত জটিলতায় administrative ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হয় এবং আপিল করতে হয় এডমিনিস্ট্রেটিভ আপিলেট ট্রাইবুনাল। সেই army instituteof হাইকোর্টের সম মর্যাদা প্রদান করা হয় কাজেই এর বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে হাইকোর্টে নয় বরং আপিল বিভাগে আপিল করে এর নিষ্পত্তি নিতে হয়।

আপিল করার নিয়ম


আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ থেকে সংবিধানের 103 ধারা অনুসারে। হাইকোর্টে যখন মামলা শেষ হয়ে যায় তখন তার বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন করা যায়। যদি আপিল বিভাগ মামলাটিকে আপিল করার যোগ্য মনে করেন সেক্ষেত্রে তারা সেটাকে আমলে নিয়ে তার প্রক্রিয়া শুরু করে। আবার কোন মামলা শেষ হওয়ার পর যদি হাইকোর্ট মনে করে যে উক্ত মামলাটি সংবিধানের সাথে জড়িত সে ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটিকে আপিল বিভাগে পাঠিয়ে থাকে।

লিভ টু আপিল


হাইকোর্ট বিভাগের দেয়া যায় যদি আপিল করার না করা প্রসঙ্গে কিছু উল্লেখ না থাকে সে ক্ষেত্রে প্রথমে আপিল বিভাগে আপিলের আবেদন করতে হয়। সাধারণত এই আপিল কি লিভ টু আপিল বলে। আবেদনকারী কি কারনে আপিল করতে চাইছে সে বিষয়টি তুলে ধরতে হয় এবং আপিল বিভাগ যদি উল্লেখিত বিষয়টিকে আপিলের যোগ্য মনে করে তবে সে ক্ষেত্রে নিয়মিত মামলা হিসেবে সেটি গ্রহণ করে।

জামিন এবং আগাম জামিন সংক্রান্ত তথ্য


যদি কোনো মামলায় নিম্ন আদালত জামিন দিতে অস্বীকৃতি বদন করে থাকে তবে সে ক্ষেত্রেও উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন বিবেচনা করে জামিনের নির্দেশ দিতে পারে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মামলায় তিনি নিম্ন আদালতে চলতে থাকে যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিনে বেরিয়ে আসার সুযোগ পান।
সাধারণত সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিগন আগাম জামিনের জন্য আবেদন করতে পারেন এবং তারা এই সুবিধাটা পেয়ে থাকে। যদি তিনি মনে করেন যে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা হতে পারে সেক্ষেত্রেও তিনি আগেভাগে জামিন নিয়ে নিতে পারেন। এবং হাইকোর্ট তার গুরুত্ব বুঝে আগাম জামিনের নির্দেশ দিতে পারেন।

কারা মামলা করতে পারেন


অন্যসব আদালতের মত উচ্চ আদালতেও নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে আইনজীবী সাহায্য নেয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইনগত দিক বুঝে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে সাধারণত আইনজীবীর সাহায্য নেওয়াই ভালো। যেসব আইনজীবী উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনা করার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন কেবল উক্ত আইনজীবীরাই উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারেন। কাজেই নিম্ন আদালতে নিয়মিত মামলা পরিচালনা করেছেন কিন্তু আদালতে তালিকাভুক্ত নন এমন আইনজীবী উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না।

আইনজীবীর সাথে যোগাযোগের নিয়ম নীতি


আপনার আইনজীবী নিম্ন আদালতে মামলা শেষ হওয়ার পর তিনি উৎসব আলোতে মামলার জন্য কোনো আইনজীবীর কাছে যেতে হবে সে সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারেন। তবে আপনি ইচ্ছে করলে যে কোনো আইনজীবীর কাছে যেতে পারেন। বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বেরিসটার মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আলাদা কোনো সুবিধা ভোগ করেন না। তবে যে কোনো আইনজীবী কাছে যাওয়ার চেয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবীর কাছে গেলে ভালো ফলের প্রত্যাশা করা যায়। শুধুমাত্র অভিজ্ঞ সুপরিচিত আইনজীবীর এই যে মামলায় জিতেযাবে তেমন কোন কথা নয় অনেক সময় নতুন আইনজীবীরাও কম খরচে আপনার মামলার জিতে নিতে পারে।

বিভিন্ন আইনজীবি বিভিন্ন ধরনের মামলা পরিচালনা করে অভিজ্ঞ হয়ে থাকে তাই সেই দিকটা নজর রাখা উচিত। পরিচিত গনগন এর মধ্য থেকে আইনজীবী সর্ম্পকে জানার চেষ্টা করা যেতে পারে। সেই সাথে ঢাকার বিভিন্ন ল ফার্ম গুলোর সাথে যোগাযোগ করে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। আবার আপনি ইচ্ছে করলে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে মামলা পরিচালনার দায়িত্বভার প্রদান করতে পারেন।
হাইকোর্ট চত্বরে বিভিন্ন আইনজীবীর chamber রয়েছে সেখান থেকেও আপনি তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এছাড়া এবং দুটি হলে আইনজীবীগণ বসেন। সুপ্রিম কোর্ট বার অফিস থেকে তালিকাভুক্ত সব আইনজীবীর ঠিকানা ও ফোন নম্বর সম্বলিত একটি directory সংগ্রহ করা যেতে পারে। বর্তমান সময়ে আইনজীবীদের নামের তালিকাসহ একটি ওয়েবসাইট রয়েছে সেখান থেকেও আপনি বিস্তারিত তথ্য গ্রহণ করতে পারেন।

মামলার দায়িত্ব প্রদান করবেন কিভাবে

উত্তর নামা বা একটি চুক্তি পত্রের মাধ্যমে আইনজীবীকে মামলার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অপু আইনজীবীর লিখিত সম্মতি ব্যতীত অন্য কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনার সুযোগ থাকে না।

উকিল নোটিস কি?


যে কোন মামলা পরিচালনা শুরু করার আগে প্রতিপক্ষকে নোটিশ করে তা জানানোর নিয়ম রয়েছে। সাধারনত যে আইনজীবিকে মামলার দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তিনি এই নোটিশ প্রদান করে থাকেন। আর এই নোটিশে একটি নির্দিষ্ট সময় দিয়ে বলা হয় যে উক্ত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে মামলা করা হবে। কত দিন সময় বেঁধে দিতে হয় তার সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। তবে সরকারি প্রতিপক্ষ হলে এক মাস সময় দেবার নিয়ম রয়েছে অন্য ক্ষেত্রে 24 ঘন্টা থেকে এক মাসের মত সময় বেঁধে দেয়া যেতে পারে।

উকিল নোটিশ এর জন্য আইনজীবিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিতে হয় আর অধিকাংশ আইনজীবী উকিল নোটিশ দেবার আগে ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেয়। নিম্ন আদালতে কাজ করলে নিম্ন আদালতে আইনজীবী নোটিশ দিতে পারেন আর উচ্চ আদালতে মামলা করতে হলে উচ্চ আদালতে কাজ করেন এবং আইনজীবিকে নোটিশ দিতে হয়।

সাধারনত উকিল নোটিশ এর সাথে আদালতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

মামলা শুরু করবেন কিভাবে


এ কাজটি আইনজীবী বা তার সরকারি করে থাকেন। করব পিসি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা কার্য সম্পন্ন হলে 13 নম্বর পাওয়া যায় এবং তারপর হাইকোর্টের কোন একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এরপর থেকেই সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি প্রদর্শিত হতে থাকে। কার্যতালিকা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে শুনানি কাজ সম্পন্ন করতে হয় বা করা হয়। একাধিক বীর সেনানী কার্য সম্পন্ন হতে পারে অথবা প্রতিপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সময় দেয়া হতে পারে। আর এর মাঝে বেঞ্চ ভেঙ্গে দেয়া হলে পুনরায় একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।

ছুটির দিনের তালিকা


বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে ঐতিহ্যগতভাবেই দীর্ঘ ছুটির নিয়ম রয়েছে। শুক্র ও শনিবার আদালতের কোন প্রকার কার্যক্রম চলে না। সেই সাথে সরকারী ছুটির দিনেও আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। আজ প্রতিবছর সুপ্রিমকোর্ট বার নিজের ছুটির তালিকা একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার এর মাধ্যমে জানিয়ে থাকে।


  • মার্চের শেষ সপ্তাহ এবং এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ ছুটি
  • জুনের শেষ সপ্তাহে এবং জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ছুটি
  • আগস্টের শেষ সপ্তাহ এবং পুরো september
  • অক্টোবরের শেষ দুই সপ্তাহ এবং ডিসেম্বরের শেষ দুই সপ্তাহ ছুটি


এখন আমরা চেম্বার জজ সম্পর্কে কথা বলবো


কোন জরুরী প্রয়োজনে বা বিশেষ করে দীর্ঘ ছুটির সময়ে জরুরি মামলা দেখার জন্য প্রধান বিচারপতির আপিল বিভাগের একজন বিচারককে চেম্বার জজ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। টেনে আবেদনকারীর আবেদন বিবেচনা করি প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন অথবা নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য বিষয়টি পাঠিয়ে দেয়। চেম্বার জজ অফিস সময়ের বাইরেও আবেদন শুনতে পারেন এমনকি বাসায় বসে আবেদন বিবেচনা করে রায় দিতে পারেন। দেরি করলে আবেদনকারীর ক্ষতি হতে পারে এমন অবস্থাতে সাধারনত এই মামলাগুলো বিবেচনায় নেয়া হয়।

No comments

Post a Comment