12/27/2017

যদি আপনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন তাহলে কি করবেন?




আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যক্তিরা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নামেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর পুলিশ বিভিন্ন অভিযানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করে থাকে এবং এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। কিন্তু সন্দেহভাজন যে কাউকে তাঁরা অনির্দিষ্টকাল আটক করে রাখতে পারেন না। 24 ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দিতে হয় অথবা কোন আইনের আওতায় তাকে গ্রেফতার দেখাতে হয় অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করতে হয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আদেশ দিতে পারেন।

এখন আমরা দেখে নেব পুলিশ গ্রেফতার করলে আমাদের কি করা উচিত



  1. পুলিশের নিকট প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে যেমন নাম-ঠিকানা পেশাসহ পরিচয় তুলে ধরতে হবে।
  2. পেশাজীবী ছাত্র হলে অবশ্যই আপনার পরিচয় পত্র প্রদর্শন করতে হবে এ কারণে আমাদের সাথে সবসময়ই পরিচয় পত্র রাখা উচিত।
  3. এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিচিত আইনজীবীর মোবাইল নম্বর সব সময় সাথে রাখতে পারেন এবং যদি আপনি গ্রেফতার হন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তা আপনার আইনজীবীকে জানাতে পারেন সেই সাথে অন্তত আত্মীয় বা বন্ধুকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করে যেতে হবে।
  4. ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে সাধারণত গ্রেফতার কারী ব্যক্তিকে মিন্টু রোডের ডিবি অফিসে নেয়া হয় আর যে কোন থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে উক্ত থানার সংশ্লিষ্ট থানায় নেয়া হয়।
  5. গ্রেফতার হওয়ার পর কাউকে লকআপে রাখার আগে তার কাছে থাকা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন মোবাইল কাগজ টাকা পয়সা এবং ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি থাকলে সেগুলো রেখে দেওয়া হয় এবং তার একটি তালিকা তৈরি করা হয় এক্ষেত্রে অবশ্যই উক্ত তালিকায় সিগনেচার করার পূর্বে তাহার পড়ে দেখা উচিত।
  6. পুলিশ সাধারণত অফিসারের নিকট কোনো বিবৃতি দিলে তা পাঠ করে বা বিবৃতির ভাষ্য অবগত হয়ে তারপর তাতে স্বাক্ষর করা উচিত।
  7. গ্রেফতারের পর আইনজীবীরা পরিবারের কাউকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানাতে ব্যর্থ হলে সে ক্ষেত্রে আদালতে হাজির করার পর আপনি ম্যাজিস্ট্রেটকে সরাসরি বিষয়টি জানাতে পারেন তাহলে আপনার এ ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
  8. গ্রেফতার করার পর কোন পর্যায়ে যদি আপনি নির্যাতনের স্বীকার অথবা অসুস্থ হয়ে পড়েন সে ক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে বা নিজ উদ্যোগে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে নিতে পারেন এবং চেকআপ করালে অবশ্যই অবশ্যই এই রিপোর্টটি সংগ্রহে রাখতে হবে সেই সাথে যে ডাক্তারের কাছে চেকআপ করা হয়েছে উত্তর ডাক্তারের পরিচয় জেনে রাখা উচিৎ কেননা পরবর্তীতে উক্ত ডাক্তারের প্রয়োজন হতে পারে।
  9. আর যদি পুরনো কোনো মামলায় গ্রেফতার হন সেক্ষেত্রে দ্রুত ওই মামলার নম্বরসহ কাগজপত্র নিয়ে আদালতে জামিন শুনানির চেষ্টা করা যেতে পারে।
  10. নতুন কোনো মামলায় বা কার্যবিধির 54 ধারায় গ্রেফতার হলে একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে তারপর জামিন শুনানির চেষ্টা করে যেতে পারে।

No comments

Post a Comment